নবীজির (সা.) জন্ম ও ওফাতের মাসে যেসব আমল করবেন

গেজেট প্রতিবেদন

সফর মাস বিদায় নিয়ে হাজির হয়েছে আরবি বর্ষপঞ্জিকার তৃতীয় মাস রবিউল আউয়াল। এই মাসের ১২ তারিখ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হয়। এই দিনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন এবং এই দিনেই তাঁর ওফাত (ইন্তেকাল) হয়। এজন্য মুসলিমদের কাছে মাসটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

রাসুল (সা.) এর জন্মগ্রহণের কারণে যেমন রবিউল আউয়াল মাসের ফজিলত বেড়েছে, তেমনি সোমবার দিনেরও গুরুত্ব বেড়েছে। হাদিসে এসেছে, সোমবারের সওম (রোজা) সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে নবীজি (সা.) বলেন, এ দিন আমি জন্মলাভ করেছি এবং এ দিনই আমি নুবুওয়াতপ্রাপ্ত হয়েছি বা আমার ওপর (কুরআন) নাজিল করা হয়েছে। তিনি রাসুল (সা.) আরও বলেন, প্রতি মাসে তিনদিন এবং গোটা রমজান মাস সওম পালন করা হলো সারা বছর সওম পালনের সমতুল্য। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ২৪২৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬২)

প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে মহান আল্লাহ তা’য়ালা মানবজাতির জন্য একটি বড় অনুগ্রহ ও বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছিলেন। পবিত্র কুরআনে খোদ মহান রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেছেন, ‘আর আমি তো আপনাকে (রাসুল সা.) বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি।’ (সুরা আম্বিয়া, আয়াত: ১০৭)

এজন্য খোদ মহান রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনে তাঁর আদেশ-নিষেধ মেনে চলার পাশাপাশি পরকালে সফল হতে রাসুল (সা.) এর আদর্শ ও তাঁর দেখানো পথ অনুসরণের নির্দেশনা দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে নবী (সা.) আপনি বলুন- যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাস, তাহলে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপগুলো ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা ইমরান, আয়াত: ৩১)

তবে নবীজির (সা.) জন্ম ও ওফাতের মাস রবিউল আউয়ালের আমল বা করণীয় নিয়ে পবিত্র কুরআন বা হাদিসে সরাসরি কোনো আমলের কথা আসেনি। এ বিষয়ে ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর মত, রবিউল আউয়াল উপলক্ষে বিশেষ কোনো আমলের কথা কুরআন ও হাদিসে নেই। তবে রাসুল (সা.) এর জন্ম এ মাসে হওয়ায় মাসটি তাৎপর্যপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে কিছু আমল রয়েছে, অন্যান্য মাসের মতো যে আমলগুলো এই মাসেও করা যায়। যেমন: প্রতি সোমবারে রোজা রাখা।

খোদ নবীজিও (সা.) সোম ও বৃহস্পতিবারে রোজা রাখতেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন- প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার (আল্লাহ তা’য়ালার দরবারে) আমল পেশ করা হয়। সুতরাং, আমার আমলসমূহ রোজা পালনরত অবস্থায় পেশ করা হোক, এটাই আমার পছন্দনীয়। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ৭৪৭)

এ ছাড়াও ফজিলতপূর্ণ মাস হওয়ায় রবিউল আউয়াল মাসের সম্মানে এ মাসে গাফিলতি না করে ফরজ ইবাদতে গুরুত্ব দেয়া যেতে পারে। পাশাপাশি নফল ইবাদত করা যেতে পারে। তবে বর্তমান সময়ে অনেকে ১২ রবিউল আউয়ালে নবীজির (সা.) জন্মদিনকে উৎসব হিসেবে পালন করেন, যা মোটেও উচিত নয়।

ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর ভাষ্য, শরিয়তে এর কোনো ভিত্তি নেই। এমনকি সাহাবায়ে কেরামরাও কখনো ১২ রবিউল আউয়ালকে খুশি কিংবা শোক দিবস হিসেবে পালন করেননি। সুতরাং, এই দিবসকে কেন্দ্র করে কোনোরূপ উদ্‌যাপন শরিয়তসম্মত নয়।

মনে রাখতে হবে, আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ আমাদের শরিয়তে সংগত নয়- এমন কিছুর অনুপ্রবেশ ঘটালে, তা প্রত্যাখ্যান করা হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৫১৭)

উল্লেখ্য, আগামী ২৬ আগস্ট (বুধবার) দেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদ্‌যাপিত হবে। গত ১৩ আগস্ট সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা শেষে এ তথ্য জানানো হয়। দিনটিতে সরকারি ছুটি থাকবে।

খুলনা গেজেট/এএজে




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন